টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি বর্জনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে লঙ্কান বোর্ড। তবে পিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এটি পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্ত, যা পরিবর্তনের ক্ষমতা তাদের নেই।
এসএলসি তাদের চিঠিতে পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ২০০৯ সালে লাহোরে লঙ্কান বাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর যখন বিশ্বের কোনো দেশ পাকিস্তানে যেতে রাজি ছিল না, তখন শ্রীলঙ্কাই প্রথম দেশ হিসেবে সেখানে সফর করেছিল। সেই ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার’ খাতিরে এবং টুর্নামেন্টের বৃহত্তর স্বার্থে পিসিবিকে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার অনুরোধ করেছে তারা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং নিরাপত্তাসহ সব লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বলেছে, “এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পাকিস্তান সরকারের। আমাদের কিছু করার নেই।” গত ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি খেলবে না।
এই ম্যাচটি না হলে ক্রিকেট বিশ্বে এক নজিরবিহীন আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে: আইসিসির লোকসান: সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন মিলিয়ে আইসিসির প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা (৫০০ মিলিয়ন ডলার) ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ক্ষতি: টিকিট বিক্রি ও পর্যটন খাত থেকে বড় অংকের রাজস্ব হারাবে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা।
পিসিবির ঝুঁকি: ম্যাচ বয়কটের কারণে আইসিসি পাকিস্তানের বাৎসরিক লভ্যাংশ (প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা) আটকে দিতে পারে এবং বড় ধরনের জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে পিসিবি।
আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মেনে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। আইসিসির এই ‘একপাক্ষিক’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই পাকিস্তান সরকার ভারত ম্যাচ বয়কটের এই কড়া অবস্থান নিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :