আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় অঘটনের হাত থেকে রক্ষা পেল পাকিস্তান। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ডাচদের বিপক্ষে প্রায় হারতে বসা ম্যাচে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। জয়ের নায়ক ফাহিম আশরাফ ১১ বলে ২৯ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে ৩ বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডসের শুরুটা ছিল দারুণ। মাইকেল লেভিট (২৪) ও অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের (৩৭) ব্যাটে ভর করে ১২.১ ওভারেই ১০০ রান তুলে ফেলেছিল ডাচরা। তবে পাকিস্তানের বোলাররা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালে শেষ দিকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ডাচ ব্যাটিং লাইনআপ। ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানেই অলআউট হয় নেদারল্যান্ডস। পাকিস্তানের পক্ষে সালমান মির্জা ৩টি এবং আবরার আহমেদ ও মোহাম্মদ নওয়াজ ২টি করে উইকেট নেন।
১৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রান করে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৯৮ রান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় চিরচেনা ‘পাক-নাটক’। পল ফন মিকেরেনের এক ওভারে জোড়া উইকেটসহ মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাবর আজমরা। ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন হারের শঙ্কায় পাকিস্তান, তখনই দৃশ্যপটে আসেন ফাহিম আশরাফ।
শেষ ২ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ২৯ রান। ১৯তম ওভারে লোগান ভ্যান বীকের ওপর চড়াও হন ফাহিম। ৭ রানে জীবন পাওয়ার সুযোগ নিয়ে ওই এক ওভারেই তিনটি ছক্কা ও একটি চারে ২৪ রান তুলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তিনি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে দলের ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন এই অলরাউন্ডার।
ম্যাচ শেষে ডাচ পেসার পল ফন মিকেরেন আক্ষেপ করে বলেন, “পাকিস্তান আজ ম্যাচ জেতেনি, আমরাই নিজেদের ভুলের কাছে হেরে গেছি। পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে পারলে ফল অন্যরকম হতো।” তবে দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে গর্বিত এই পেসার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: নেদারল্যান্ডস: ১৪৭/১০ (১৯.৫ ওভার); এডওয়ার্ডস ৩৭, ডি লিড ৩০।
পাকিস্তান: ১৪৮/৭ (১৯.৩ ওভার); ফারহান ৪৭, ফাহিম ২৯*, সায়েম ২৪।
ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: ফাহিম আশরাফ।


আপনার মতামত লিখুন :