টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও ক্রীড়া সংকট নিরসনে পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাদ দেওয়ার পর। এর পরপরই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ দল। বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
বাংলাদেশের এই বহিষ্কারকে ‘অন্যায্য’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে ঢাকার প্রতি সংহতি জানিয়েছে পাকিস্তান। পিসিবি ঘোষণা করেছে, তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে হাই-প্রোফাইল ম্যাচটি বয়কট করবে। পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের ফলে আইসিসি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের এই সফর ও ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি বিশ্ব ক্রিকেটের রাজনীতিতে একটি বড় মোড় নিতে পারে। বৈঠকের মূল লক্ষ্যগুলো হলো: বাংলাদেশের বিশ্বকাপে ফেরার কোনো বিকল্প পথ খুঁজে বের করা। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে আইসিসির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া। টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানো।
পাকিস্তান যদি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে ব্রডকাস্টিং এবং স্পন্সরশিপ থেকে বিশাল আয়ের সুযোগ হারাবে আইসিসি। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও (এসএলসি) পিসিবিকে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ এতে তাদেরও রাজস্ব আয়ের বড় ক্ষতি হবে।
বিসিবি সভাপতি আজ বিকেলেই বৈঠক শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের পর আইসিসি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।


আপনার মতামত লিখুন :