টাঙ্গাইলের মধুপুরে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের (টয়লেটের গর্ত) ভেতর পড়ে যাওয়া একটি ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের চারজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাবা ও তাঁর ১০ বছর বয়সী শিশু ছেলেও রয়েছেন।
আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মধুপুর উপজেলার অরণ্যখোলা ইউনিয়নের কুড়াগাছা অঞ্চলের তেলকি জলই এলাকায় এই হাহাকার করা দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার জলই তেলকি এলাকার বাবলু হাদিমা (৩৫), তাঁর শিশু ছেলে নেইমার ম্রং (১০), একই পরিবারের রতন নকরেক (২৫) ও গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫)। নিহতদের সবার বাড়ি জলই গ্রামেই।
মধুপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে একটি ছাগল বাড়ির পাশে থাকা একটি গভীর পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতরের গর্তে পড়ে যায়। ছাগলটিকে জীবিত উদ্ধার করার জন্য প্রথমে পরিবারের সদস্য গ্রাব্রিয়েল নকরেক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু ভেতরে নামার পর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে কিছুক্ষণ পরও তাঁর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।

বাইরে থেকে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে কী ঘটেছে তা দেখতে এবং তাঁকে উদ্ধার করতে পরিবারের অন্য সদস্যরা উদগ্রীব হয়ে পড়েন। এরপর একে একে আরও তিনজন (রতন, বাবলু ও শিশু নেইমার) ওই গর্তে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতর জমে থাকা অত্যন্ত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড বা মিথেন গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনই অবরুদ্ধ গর্তের ভেতরে জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
দীর্ঘক্ষণ কারো কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির অন্য লোক ও প্রতিবেশীরা চিৎকার শুরু করেন এবং দ্রুত মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনের নিথর মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর পুরো জলই গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাড়ায় শোকের মাতম চলছে।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম ফজলুল হক বলেন, “পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া একটি ছাগল তুলতে গিয়ে সম্ভবত ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।”
মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :