ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News
মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন

আরাফাতের মহাসমাবেশ শেষে পশু কোরবানি করছেন হাজিরা

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

আরাফাতের মহাসমাবেশ শেষে পশু কোরবানি করছেন হাজিরা

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বুধবার (২৭ মে) অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববীসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রধান প্রধান ঈদগাহে ঈদের জামাত, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি এবং হজের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রুকন ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পরই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরাম কাপড়ে সজ্জিত শুভ্র মানবসমুদ্রের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজের ৯ তারিখ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান স্তম্ভ। গতকাল সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত অর্জনের আশায় কান্নায় ভেঙে পড়েন সমবেত মুসলমানরা।

দুপুরে আরাফাতের ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে এবার বাংলাসহ বিশ্বের রেকর্ড ৩৫টি ভাষায় হজের এই খুতবা সরাসরি অনুবাদ করে বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা ও বিশেষ মোনাজাত শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন। এরপর সূর্যাস্তের পর তারা খোলা আকাশের নিচে রাতযাপনের জন্য মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে মাগফিরাতের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর বা পাথর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ বুধবার সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল ও চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। পাথর নিক্ষেপ শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় হাজিরা পশু কোরবানি করছেন। কোরবানি সম্পন্ন করার পর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরামের কাপড় ত্যাগ করে সাধারণ পোশাক পরিধান করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফে জিয়ারাহ) করার মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন বিশ্ব মুসলিমের এই প্রতিনিধিরা।

এদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ঈদকে ঘিরে ব্যাপক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মরুভূমির তীব্র গরম উপেক্ষা করে প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানরা আগে থেকেই দুম্বা, উট, গরু ও ছাগলসহ কোরবানির পশু কিনেছেন। প্রবাসে নিজ নিজ কমিউনিটির বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করেছেন তারা।

চলতি বছর তীব্র গরমের মধ্যে হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি আরবের রাজকীয় সরকার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হাজিদের হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম পানির ফোয়ারা, কুয়াশা ও শীতল ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত দ্রুত ও সহজ করতে মক্কা-মিনা-আরাফাত রুটে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ এসি বাস ও দ্রুতগতির আল মাশায়ের মেট্রো ট্রেন পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!