ঢাকা শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

অর্থনীতির সব খাতে সম্প্রসারণ, গতি কিছুটা মন্থর: ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

অর্থনীতির সব খাতে সম্প্রসারণ, গতি কিছুটা মন্থর: ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সামগ্রিকভাবে সম্প্রসারণের ধারা অব্যাহত থাকলেও এর গতি এখনও প্রত্যাশার তুলনায় ধীর বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত বিভিন্ন ব্যবসায়িক সূচক ও জরিপে দেখা যাচ্ছে, কৃষি, শিল্প ও সেবা—প্রায় সব খাতেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে উঠে এসেছে বিনিয়োগে ধীরগতি, উচ্চ ব্যয় এবং বাজারে আস্থার ঘাটতির চিত্র।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, অর্থনীতি থেমে নেই, কিন্তু দৌড়ও দিচ্ছে না। উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে, তবে নতুন বিনিয়োগ ও বড় সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় উদ্যোক্তারা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

শিল্প ও উৎপাদন খাত

শিল্প খাতে জানুয়ারিতে উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ শিল্প এবং হালকা প্রকৌশল খাতে চাহিদা তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে পোশাক খাতে আন্তর্জাতিক অর্ডার পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি। উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব, উচ্চ সুদের হার এবং কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এখনও বেশি।

সেবা ও বাণিজ্য খাত

ব্যাংকিং, পরিবহন ও খুচরা বাণিজ্য খাতে কার্যক্রম বাড়লেও লাভের হার খুব একটা বাড়েনি। ব্যবসায়ীদের মতে, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি বাড়ছে না, ফলে ব্যবসা চালু থাকলেও লাভ সীমিত।

কৃষি খাতের চিত্র

কৃষি খাতে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও কৃষক পর্যায়ে লাভজনকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সার, বীজ ও পরিবহন খরচ বাড়ায় কৃষকের প্রকৃত আয় তেমন বাড়েনি। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন গতি মন্থর?

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গতি মন্থর হওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—

  • উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়
  • ব্যাংক ঋণের সুদহার বেশি থাকা
  • ডলার সংকট পুরোপুরি কাটেনি
  • রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা

তাদের মতে, ব্যবসায়ীরা এখন “অপেক্ষা ও দেখার” নীতিতে আছেন। অর্থাৎ বড় বিনিয়োগের আগে তারা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বলছেন ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, যদি মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসে, ডলার বাজার স্থিতিশীল হয় এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে অর্থনীতির গতি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংক খাতে সংস্কার, করব্যবস্থায় সহজীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি ট্রানজিশন পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রসারণ আছে, সম্ভাবনাও আছে—তবে কাঙ্ক্ষিত গতিতে পৌঁছাতে হলে আস্থা, স্থিতিশীলতা ও কার্যকর নীতির সমন্বয় জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডিজিএন

banner
Link copied!