ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। এই সংকট কাটাতে এবং জ্বালানি তেলের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে চীন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন মূলত অপরিশোধিত তেল এবং কাতারি গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিতে তেহরানের সঙ্গে দরকষাকষি করছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের কারণে শত শত জাহাজ বর্তমানে এই প্রণালীর আশেপাশে আটকা পড়ে আছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে।
রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি তেলের ট্যাংকার নিজেকে ‘চীনা জাহাজ’ দাবি করে সফলভাবে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। তবে বিবিসি তাৎক্ষণিকভাবে এই চলাচলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় চীনের জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে ইরান কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করতে পারে।
চীন শুরু থেকেই ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে। তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় এই সংকট নিরসনে চীনের মধ্যস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বা চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছে উন্নয়নশীল দেশগুলো।


আপনার মতামত লিখুন :