ঢাকা শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

গ্যাস সংকট: ৫ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, জ্বালানি সাশ্রয়ের কঠোর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

গ্যাস সংকট: ৫ সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, জ্বালানি সাশ্রয়ের কঠোর নির্দেশনা

দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটিসহ মোট পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে থাকা পাঁচটি কারখানার মধ্যে বর্তমানে সচল আছে কেবল শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড।

বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মনিরুজ্জামান শুক্রবার (৬ মার্চ) নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উৎপাদনে নেই সরকারি ৪টি ও বেসরকারি ১টি কারখানা হলো: ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার এবং আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি। বেসরকারি খাতে, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)।

বিসিআইসি জানিয়েছে, শাহজালাল ফার্টিলাইজার বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করছে। তবে সংস্থাটির পাঁচটি কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিশেষ নির্দেশনায় জ্বালানি সাশ্রয়ের কঠোর পরামর্শ দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা, গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার এবং পাইপলাইনের লিকেজ রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া।

পরিবহন নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানি তেল সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে।

যাতায়াত সীমিতকরণ: নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় সার কারখানা বন্ধ থাকলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও সমুদ্রপথের অস্থিরতা না কাটলে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!