ঢাকা শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

গাজীপুরের মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা: ভোগান্তি এড়াতে পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ১২:১০ পিএম

গাজীপুরের মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা: ভোগান্তি এড়াতে পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং বিআরটি প্রকল্পাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ভোগান্তির অবসান হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫৫-৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদে এই চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক দিয়ে আসা গাড়ির স্রোত চন্দ্রায় এসে মিশলে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জটলা তৈরি হয়।

চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কে ট্রাফিক আইন না মানা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং বেপরোয়া অটোরিকশা চলাচলের কারণে গাড়ির গতি মন্থর হয়ে পড়ে।

এনা পরিবহনের চালক জানান, "লেনের সীমাবদ্ধতা এবং অটোরিকশার এলোমেলো চলাচলের কারণে চন্দ্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। এবারও সেই একই শঙ্কা কাজ করছে।"

অন্যদিকে, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শ্রীপুরের মাওনা পর্যন্ত অংশে যানজটের শঙ্কা কাটছে না। বিআরটি প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজ, সরু রাস্তা এবং চান্দনা চৌরাস্তার ফ্লাইওভার পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে।

যাত্রী খালেদ হোসেন বলেন, "চান্দনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের ওপর ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হয়েছে, যা রাস্তা আরও সরু করে দিয়েছে। এছাড়া ফুটপাত দখল করে বাজার বসানো তো আছেই।"

চিহ্নিত যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো হলো, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক: চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ি ও সফিপুর।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক: টঙ্গী স্টেশন রোড, বোর্ড বাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, মাওনা চৌরাস্তা, সিডস্টোর এবং ভালুকা বাসস্ট্যান্ড।

গাজীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তারা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন বলেন, "যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের ৮৭২ জন সদস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ও মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে। যেকোনো দুর্ঘটনা বা বিকল হওয়া গাড়ি দ্রুত সরাতে রেকার রিজার্ভ রাখা হয়েছে।"

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ও এই পয়েন্টগুলোকে বিশেষভাবে নজরদারিতে রেখেছে। তবে সাধারণ যাত্রী ও চালকদের দাবি, শুধু পরিকল্পনা নয়, বরং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করলেই ঈদযাত্রা সফল হবে।

ডিজিএন/এফএ

banner
Link copied!