ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা আজ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এটিই প্রথম বাজেট। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই সম্ভাব্য বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থবিভাগের আভাস অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের চাপ থেকে বাজেটের আকার এত বড় হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানোই হবে এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মে মাসের তথ্য অনুযায়ী দেশের মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই বাজেটে সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই লক্ষ্য পূরণে এবং জনজীবনে স্বস্তি আনতে বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এবার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হতে পারে।

একই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকার বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে। এছাড়া ব্যবসা সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে ‘বাংলাবিজ’ নামে সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এবং ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশাল আকারের এই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আহরণ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা। বিবিএস-এর সাময়িক হিসাব অনুযায়ী দেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় এখন ৩ হাজার ২০ ডলার এবং অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যয়ের অর্থ জোগাতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআর থেকেই আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যার মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকেই ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিডিপির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রফতানি হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ ও ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ সামলে এই বিশাল রাজস্ব আদায় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!