ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News
বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন

ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর মাতালেন বাংলাদেশের সঞ্জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ১০:০০ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসর মাতালেন বাংলাদেশের সঞ্জয়

ছবি: সঞ্জয় দেব এর ফেসবুক থেকে

ঢাকা: ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা আর বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি দেখা যাবে কয়েক বছর আগেও এমনটা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে সেই অবিশ্বাস্য দৃশ্যই বাস্তবে রূপ পেল।

কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয় দেব। শুধু নিজের দুর্দান্ত পরিবেশনাই নয়, পোশাকে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক ফুটিয়ে তুলে বিশ্বমঞ্চে অনন্য প্রশংসা কুড়াচ্ছেন এই তরুণ।

এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। প্রতিটি আয়োজক দেশেই থাকছে বিশেষ উদ্বোধনী আয়োজন। কানাডা অঞ্চলের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে সঞ্জয়ের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপ-হপ তারকা ভেজেড্রিম।

স্টেডিয়ামভর্তি লাখো দর্শকের সামনে তাঁরা পরিবেশন করেন ফিফার অফিসিয়াল গান ‘সির সির’। গত ৮ জুন ফিফার ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশের পর মাত্র ৪ দিনেই ৩ কোটি ৮৩ লাখের বেশি ভিউ পেয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

গানের সুর ও তালের পাশাপাশি কোটি বাংলাদেশি দর্শকের চোখ বারবার আটকে যাচ্ছিল সঞ্জয়ের পরিহিত বিশেষ জ্যাকেটটিতে। জ্যাকেটের ডান হাতার অংশে নিখুঁত এমব্রয়ডারির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং সবুজের মাঝে লাল বৃত্তে অঙ্কিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

পারফরম্যান্স চলাকালে সঞ্জয় বারবার নিজের জ্যাকেটের হাতার দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্ববাসীর সামনে এই নকশাগুলো তুলে ধরছিলেন। যেন বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে কোটি বাংলাদেশির আবেগকে ধারণ করে তিনি বলছিলেন, ‘এটাই আমার বাংলাদেশ।’ এই বিশেষ পোশাকটির নকশা করেছেন ছায়া কুমার, এমব্রয়ডারির কাজ করেছেন জন কিম এবং স্টাইলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন জেসমিন প্যাটেল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করার একটি ৬৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ সঞ্জয় তাঁর ফেসবুকে শেয়ার করার পর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন এবং রিয়্যাকশন এসেছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনোদন অঙ্গনের তারকারা এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য সঞ্জয়কে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

সঞ্জয় দেবের শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে। চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তাঁর জন্ম। শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। প্রায় দুই যুগ আগে বাবা সন্তোষ দেব ও মা মিতা দেবের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই শিল্পী বাংলা সংগীতের উপাদানকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫-এর থিম সং তৈরিতেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচরণ করলেও দেশের সংগীতাঙ্গনের একাধিক জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেছেন সঞ্জয়। তাঁর কাজের মধ্যে হাবিব ওয়াহিদ ও মুজার সঙ্গে ২০২৪ সালের গান ‘একলা দুনিয়া’ ইউটিউবে ৩৭ লাখের বেশি, তাহসান খান ও মুজার সঙ্গে ‘ভুলে যাব’ গানটি ২৪ লাখের বেশি এবং জেফার রহমানের সঙ্গে করা ‘আড়ালে হারালে’ গানটি ৬৫ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের আগে সঞ্জয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি বিশ্বকাপের এই মুহূর্তের জন্য খুবই বিশেষ পরিকল্পনা করেছেন, কারণ এমন মুহূর্ত জীবনে বারবার আসে না। বাস্তবেও তাঁর সেই পরিকল্পনা ও দেশপ্রেমের অনন্য নিদর্শন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা ও পরিচিতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!