ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

২৪ ঘণ্টার মধ্যে কি হচ্ছে মার্কিন-ইরান চুক্তি? ট্রাম্পের দাবির মুখে তেহরানের সংশয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

২৪ ঘণ্টার মধ্যে কি হচ্ছে মার্কিন-ইরান চুক্তি? ট্রাম্পের দাবির মুখে তেহরানের সংশয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচী নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আজ রোববারের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের এই নির্দিষ্ট সময়সূচী নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে ইরান।

এদিকে, এই আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা এর জন্য ‍‍`ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের‍‍` প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, "চুক্তিটি আগামীকাল (রোববার) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।"

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, "যথাযথ সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা সেখানে গিয়ে ‍‍`নিউক্লিয়ার ডাস্ট‍‍` (পারমাণবিক ধূলিকণা) নিয়ে আসব এবং পরে সেটি ধ্বংস করা হবে।"

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে আরও বলেন, যদি এই বিষয়গুলো দ্রুত, সহজে এবং মসৃণভাবে সমাধান না হয়, তবে ওয়াশিংটনের কাছে ‍‍`চূড়ান্ত বিকল্প‍‍` তৈরি রয়েছে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই বিকল্পটি আর কখনোই ব্যবহার করতে হবে না।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের আগেই চুক্তির সময়সূচী নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরানের কণ্ঠে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই সময়সূচী নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন: "সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঠিক তারিখ সম্পর্কে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকালই (রোববার) হচ্ছে না।"

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে। তবে ইরান বরাবরের মতোই তা অস্বীকার করে দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, "আমরা শান্তি চুক্তির আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছি।" তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পাকিস্তান ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।

আরাঘচি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতেরও অবসান ঘটবে।

মার্কিন কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে কি না, তা নির্ভর করবে তেহরান চুক্তির প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করছে তার ওপর।

চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা আক্রমণ চালায়। একই সাথে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান।

পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পুরোপুরি শান্তি ফেরেনি। মাঝে মাঝেই দুই দেশ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে চলতি সপ্তাহেও দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকবার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে এসে তা ভেস্তে যায়। ফলে এবার শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি আলোর মুখ দেখে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!