ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Daily Global News

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে: কানাডীয় পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য উত্তেজনা চরমে: কানাডীয় পণ্যে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহলের প্রতি কানাডার ‍‍`অসম আচরণের‍‍` অভিযোগ তুলে এবার কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হতে যাওয়া এই শুল্ক নীতির কারণে উত্তর আমেরিকার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও প্রকট আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। নতুন এই শুল্কের তালিকায় ওয়াইন, হকি স্টিক ও সিমেন্টের মতো বিভিন্ন ভোগ্য ও শিল্পপণ্য থাকলেও জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও মাছের মতো প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোকে এর আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ-এর অধীনে থাকুক বা না থাকুক, তালিকাভুক্ত সব কানাডীয় পণ্যের ওপরই এই কড়া শুল্ক কার্যকর হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা আরও জোরদার করতে তারা প্রস্তুত। তবে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই পদক্ষেপকে ইউএসএমসিএ চুক্তির লঙ্ঘন এবং একতরফা বাণিজ্য নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একইসঙ্গে এই শুল্ক আরোপকে কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি বলেও মন্তব্য করেছেন কার্নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সম্প্রতি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, কার্নির এই বক্তব্য মূলত সেটিরই কড়া জবাব।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে এই টানাপোড়েন অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। আগে থেকেই কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া কানাডীয় সফটউড এবং গাড়ির যন্ত্রাংশেও চড়া শুল্ক রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। সম্প্রতি কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষোভ থেকেও ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সোমবার স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে দাবানলের কোনো উল্লেখ না করে বরং গাড়ি, দুগ্ধপণ্য ও মদের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক বিরোধকেই প্রধান কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।

ট্রাম্পের মূল অভিযোগ হলো, ইউএসএমসিএ চুক্তির বাইরে থাকা মার্কিন গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা অযৌক্তিকভাবে কর আরোপ করে স্পষ্ট বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। অন্যদিকে, কানাডার কঠোর দুগ্ধপণ্য আমদানি নীতির কারণে নির্দিষ্ট সীমার বেশি বিদেশি পণ্য সেদেশে ঢুকতে পারে না। আর ঢুকলেও তাতে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক গুণতে হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বড় একটি কারণ। এছাড়া গত বছর থেকে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রির ওপর চলমান বয়কটও এই উত্তেজনায় নতুন করে ঘি ঢেলেছে। কানাডার প্রাদেশিক প্রধানরা অবশ্য শর্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ধাতু ও গাড়িশিল্পের শুল্ক তুলে নেয়, তবেই তারা এই বয়কট প্রত্যাহার করবেন।

শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এবার আইনি পথেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি অবস্থার আইন ব্যবহার করে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করে দিয়েছিল। তাই এবার তিনি ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করেছেন, যা মূলত বাণিজ্যে বৈষম্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এদিকে বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ নবায়ন নিয়ে মেক্সিকো ও কানাডা আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির বর্তমান শর্তে পরিবর্তন আনতে চাইছে।

উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিল উভয় পক্ষকেই দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কোনো অর্থবহ সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে পাল্টা শুল্কের ঝুঁকিতে দুই দেশের অর্থনীতিই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!