ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

শিক্ষায় বড় রূপান্তর: ২০২৮ সালে আসছে নতুন শিক্ষাক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

শিক্ষায় বড় রূপান্তর: ২০২৮ সালে আসছে নতুন শিক্ষাক্রম

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, আনন্দময় ও কর্মমুখী করতে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বাধ্যতামূলক ৪টি নতুন বিষয় চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে আরও দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৮ সাল থেকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন সরকারের এই নতুন রূপরেখা ও উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ববর্তী বিতর্কিত শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত নতুন সরকার এবার ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে বড় পরিবর্তন আনছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যে ৪টি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হচ্ছে।

বিষয়গুলো হলো: চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। এবং কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে এই বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে: শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরুতেই দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে এই কারিগরি বিষয় যুক্ত হচ্ছে। এবং আনন্দময় শিক্ষার এই বিশেষ কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধের নীতি শিখিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এই কোর্সের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের শিক্ষাক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ‘তৃতীয় ভাষা’ শেখানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই একটি বড় অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সম্পূর্ণ নতুন একটি বাস্তবসম্মত শিক্ষাক্রম প্রণয়নের রূপরেখা তৈরির কাজ দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে, যা ২০২৮ সাল থেকে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হবে।

মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা মাত্র তিন মাসের কাজ নয়। প্রথমত এটিকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মত অনুধাবন নিশ্চিত করেই আমরা ২০২৭ সাল থেকে নতুন ৪টি বিষয় দিচ্ছি। আর পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের যে আশা করা হচ্ছে, সেটি ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে ‘শিখন ফল অর্জন’ বা কোয়ালিটি লার্নিংকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।” তবে ২০২৮ সাল থেকে এটি একযোগে সব শ্রেণিতে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংবাদ সম্মেলনে দেশের দুটি বড় পাবলিক পরীক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি ঘোষণা করেন: চলতি বছরের ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি ২০২৭ এবং শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। পবিত্র রমজান মাসের আগেই পরীক্ষা শেষ করার অংশীজনদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৬ জুন ২০২৭ এবং চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!