নারীদের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটাই হরমোনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা একটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দ্রুত সামনে আসছে। বিশেষ করে শহুরে জীবনে অনিয়মিত রুটিন, মানসিক চাপ ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে বহু নারী হরমোনজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।
চিকিৎসকদের মতে, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), থাইরয়েডের সমস্যা এবং অনিয়মিত মাসিক এখন আর বিরল নয়। আগে যেখানে এসব সমস্যা নির্দিষ্ট বয়সের পর দেখা যেত, সেখানে এখন কিশোরী বয়স থেকেই অনেকের শরীরে হরমোনের অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম, মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। এর ফলে শুধু মাসিক অনিয়ম নয়, বরং ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ, চুল পড়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুড সুইং এবং ভবিষ্যতে প্রজননজনিত জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এন্ডোক্রাইনোলজিস্টদের মতে, থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভোগা নারীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে হৃদ্যন্ত্র, বিপাকক্রিয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষিত থেকে যাওয়ায় সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে।
পুষ্টিবিদরা জানান, অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও এই সমস্যাকে আরও তীব্র করছে।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে জীবনযাপনের পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্য, দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই উপকার দিতে পারে।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হরমোনের সমস্যা অবহেলা করলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও বন্ধ্যাত্বের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের হরমোনজনিত সমস্যা নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সঠিক তথ্য ও সময়মতো চিকিৎসাই পারে এই নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করতে।


আপনার মতামত লিখুন :