ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News
তরুণরাও ঝুঁকিতে

ডিজিটাল যুগে দৃষ্টিশক্তির অবনতি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

ডিজিটাল যুগে দৃষ্টিশক্তির অবনতি

ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে চোখ এখন সবচেয়ে বেশি চাপে থাকা অঙ্গগুলোর একটি। স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ট্যাবলেটের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ফলে দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যা একসময় বয়স্কদের সমস্যা হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে দেখা যাচ্ছে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়। এর ফলেই ড্রাই আই বা চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। অনেকেই চোখে জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব ও বারবার পানি পড়ার অভিযোগ করছেন, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল রূপ নিতে পারে।

ঝাপসা দেখা এখন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের শেষে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়ায় সাময়িকভাবে দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে যায়, যা অনেক সময় অবহেলা করা হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত এমন সমস্যা হলে তা চোখের স্থায়ী ক্ষতির ইঙ্গিতও হতে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে চাপ অনুভব করার প্রবণতাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে চোখের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায় এবং কাজের দক্ষতা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কম আলোতে বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিনে কাজ করা, চোখ ও স্ক্রিনের সঠিক দূরত্ব বজায় না রাখা এবং বিরতি ছাড়া টানা কাজ করার অভ্যাস দৃষ্টিশক্তির অবনতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

চিকিৎসকরা চোখের সুরক্ষায় কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে—২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা, অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানোও জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন এ, সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার, যেমন সবুজ শাকসবজি, গাজর, ফলমূল ও বাদাম দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের ড্রপ বা বিশেষ চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দৃষ্টিশক্তির সমস্যাকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে গ্লুকোমা, দীর্ঘমেয়াদি ড্রাই আই সিনড্রোম কিংবা স্থায়ী দৃষ্টিহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার কমানো সম্ভব না হলেও সচেতন অভ্যাস গড়ে তোলাই চোখ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!