শহুরে জীবনযাত্রা ও আধুনিক অফিস সংস্কৃতি দীর্ঘসময় বসে কাজের প্রবণতা বাড়িয়েছে। যদিও অফিস ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম সুবিধা দিচ্ছে, তাতে ঘাড় ও কোমর ব্যথা এখন সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ফিজিওথেরাপিস্টদের মতে, দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসা, পর্যাপ্ত বিরতি না নেওয়া এবং শরীরচর্চার অভাব এই সমস্যার মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ব্যবহার চোখ ও মস্তিষ্কের সঙ্গে সঙ্গে পিঠ ও ঘাড়ের পেশিকেও চাপ সৃষ্টি করছে। দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটানো ও স্ট্রেচিং না করায় পেশি দুর্বল ও শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কোমর, ঘাড় এবং পিঠের ব্যথা বাড়ছে।
কীভাবে সমস্যা শুরু হয়?
- ভুল বসার ভঙ্গি: কমর বা পিঠ সঠিকভাবে সমর্থন না পাওয়ায় পেশিতে চাপ পড়ে।
- লম্বা সময় একই অবস্থানে থাকা: টানা ঘণ্টার কাজের ফলে পেশি শক্ত হয়ে যায় ও রক্ত সঞ্চালন বাধাপ্রাপ্ত হয়।
- শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের অভাব পেশিকে দুর্বল করে।
- ডিভাইসের উচ্চতা ও দূরত্ব: কম্পিউটার মনিটর বা ল্যাপটপের স্ক্রিন চোখের লেভেলের নিচে থাকলে ঘাড় ঝুঁকে বসতে হয়, যা মাংসপেশিতে চাপ সৃষ্টি করে।
লক্ষণ ও সতর্কতার বার্তা
ফিজিওথেরাপিস্টরা সতর্ক করে বলছেন, ঘাড় বা কোমরের ব্যথা প্রথমে ছোটভাবে শুরু হলেও সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে তা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় রূপ নিতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
- ঘাড় বা কোমরের তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
- বসার পর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া
- ঘাড় ঘুরানোর সময় অস্বস্তি বা কষাকষি
- পিঠে শক্তি কমে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা
প্রতিরোধ ও সমাধান
শারীরিক বিশেষজ্ঞরা নিচের কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন—
১ । সঠিক বসার ভঙ্গি: পিঠ সোজা, কাঁধ শিথিল ও পায়ের সমর্থন নিশ্চিত করা।
২ । নিয়মিত বিরতি: প্রতি ৩০–৪৫ মিনিট অন্তর দাঁড়িয়ে হাঁটাচলা বা হালকা স্ট্রেচিং করা।
৩ । শরীরচর্চা: দৈনিক অন্তত ২০–৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, যোগা বা স্ট্রেচিং।
৪ । ডিভাইস ব্যবস্থাপনা: মনিটর চোখের লেভেলে রাখা এবং ল্যাপটপ/মোবাইল ব্যবহারের সময় ঘাড় স্থিতিশীল রাখা।
৫। উষ্ণ বা ঠান্ডা প্যাক ব্যবহার: ব্যথা ও পেশি শিথিল করতে সহায়ক।
ফিজিওথেরাপিস্টদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। যেমন—
- অফিস চেয়ার ও টেবিলকে শরীরের উচ্চতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া
- সময়মতো পানি পান করা
- দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে বসলে পেছনের পেশি স্ট্রেচ করা
বিশেষ সতর্কতা
যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, হাত বা পায়ে অসাড়তা, জড়তা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফিজিওথেরাপি, মেডিকেল চেকআপ এবং নিয়মিত ব্যায়ামই একমাত্র কার্যকর সমাধান।


আপনার মতামত লিখুন :