যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে পরোয়ানা ছাড়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের ওপর কঠোর সীমা আরোপ করেছেন একটি ফেডারেল আদালত। বুধবার দেওয়া এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক মুস্তাফা কাসুবহাই নির্দেশ দেন, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলে অভিবাসন কর্মকর্তারা কাউকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারবেন না।
এই রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনে থাকা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর একটি বিতর্কিত কার্যক্রমে বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হলো। অভিযোগ ছিল, ব্যাপক অভিযানের নামে কর্মকর্তারা যাকে-তাকে আটকে দিচ্ছেন—যা সমালোচকদের ভাষায় ছিল “আগে গ্রেপ্তার, পরে যুক্তি খোঁজা” নীতি।
বিচারক কাসুবহাই জানান, প্রস্তাবিত শ্রেণিমামলার শুনানিতে উঠে এসেছে যে ওরেগনে একাধিক ক্ষেত্রে আইসিই কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট বা পালানোর ঝুঁকি যাচাই না করেই অভিবাসীদের আটক করেছেন। আদালত এ ধরনের আচরণকে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
শুনানিতে এক ভুক্তভোগী ভিক্টর ক্রুজ গামেজ আদালতে সাক্ষ্য দেন। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তার বৈধ কর্ম-অনুমতিপত্র ও ভিসা আবেদন বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তাকে আটক করা হয়। তিনি জানান, কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে তাকে গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিন সপ্তাহ একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। পরবর্তীতে একজন আইনজীবীর হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান।
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে ক্রুজ গামেজ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং বলেন, এই ঘটনার পর তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। তার স্ত্রী ভয়ে কয়েক সপ্তাহ ঘরের দরজা খোলেননি এবং নাতিদের একজন স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
বিচারক তার রায়ে বলেন, ওরেগনে আইসিই কর্মকর্তাদের কিছু পদক্ষেপ “সহিংস ও নির্মম” ছিল এবং নাগরিক স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “যাদের হাতে বিপুল ক্ষমতা থাকে, তাদের উচিত সেই ক্ষমতা সংযমের সঙ্গে প্রয়োগ করা—এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি।”
উল্লেখ্য, ট্রাম্প সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। গণ-নির্বাসন, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদারের মতো পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ওরেগনের আদালতের রায়কে অভিবাসী অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
এদিকে মামলাটি দায়েরকারী আইন সংস্থা ইনোভেশন ল’ ল্যাব জানিয়েছে, এই রায় ওরেগনে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :