জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১১০ দিনের মাথায় হঠাৎ জাতীয় নির্বাচন ডেকে বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে শক্তিশালী জনসমর্থন এনে দিয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ভূমিধস জয় পেয়েছে।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্যমতে, ৪৬৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে এলডিপি পেয়েছে ৩১৬টি আসন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন অর্জন করল। এর ফলে সংসদে বিরোধীদের কার্যকর বাধা ছাড়াই তাকাইচি তার নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচনের ফলাফল তাকাইচির কড়া অভিবাসন নীতি, চীনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং ব্যাপক সরকারি ব্যয়ের পরিকল্পনার পক্ষে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজায় পর তিনি বলেন, জনগণের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া সরকার চালানো তার কাছে সঠিক মনে হয়নি বলেই তিনি আগাম নির্বাচনে গিয়েছিলেন।
এই জয়ের ফলে প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে রক্ষণশীল নীতি আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলে গেল। নির্বাচনের পরপরই জাপানের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; নিক্কেই সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকাইচিকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং নির্বাচনী জয়ের জন্য তাকে অভিনন্দনও জানান। তাকাইচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের জোট আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তাকাইচি কঠিন বাস্তবতার মুখে রয়েছেন। তাইওয়ান ইস্যুতে তার এক মন্তব্যের পর চীন জাপানের ওপর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। তবে নির্বাচনী ফলাফলের মাধ্যমে জনগণ যে জাপান পিছু হটবে না—সে বার্তাই দিয়েছে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
অর্থনীতি ছিল এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ ছিল স্পষ্ট। এখন শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তাকাইচির সামনে চ্যালেঞ্জ—প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় তাকাইচিকে ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রীতে পরিণত করতে পারে—যদি তিনি ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :