ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করতে যাচ্ছে দেশটির আইনসভা। আজ বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সিনেটে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রস্তাব পাস হলে ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসবে।
মার্কিন কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় বিলটি নিয়ে সিনেটে বিতর্ক শুরু হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি বড় অংশ প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে মনে করছেন। তাদের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, যা ট্রাম্প লঙ্ঘন করেছেন।
তীব্র বিতর্ক ও বিরোধিতার মুখেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও দ্রুত পদক্ষেপের স্বার্থে কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র সিনেটর এই বিলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেহরান দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধ মার্কিন জনগণের স্বার্থে করছেন না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মূলত ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট করার জন্যই মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন।


আপনার মতামত লিখুন :