ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

ইরানে ইসরায়েলের নতুন করে হামলা, মার্কিন অভিযানে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস

আন্তর্জাতি ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

ইরানে ইসরায়েলের নতুন করে হামলা, মার্কিন অভিযানে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস

ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বুধবার ভোররাত থেকে তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের আবাসিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল।

এদিকে ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, “ইরানের সবকিছু উপড়ে ফেলা হয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত চার দিনে ইরানের ভেতরে ২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাইট, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার। মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রদর্শনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানও বসে নেই। মঙ্গলবার রাত থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, এসব হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

সহিংসতা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া লেবানন ও ইসরায়েলে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় আরও কয়েকশ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের ওপর এই ব্যাপক হামলার ফলে জর্ডান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ‘হরমোজ প্রণালী’ নিয়ন্ত্রণের দাবি করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা ও এমিরেটসের মতো এয়ারলাইন্সগুলো।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!