মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে সুইজারল্যান্ডের টেবিলে শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত নতুন দফার উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা। আজ রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই ঐতিহাসিক শান্তি বৈঠক শুরু হয়।
এই মেগা বৈঠকে অংশ নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিনিধি দল, আয়োজক দেশ সুইজারল্যান্ড এবং সংঘাত নিরসনে দীর্ঘ চার মাস ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা দুই বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তান ও কাতারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অনলাইনে সই করা ঐতিহাসিক ১৪ দফার অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতেই মূলত সুইজারল্যান্ডে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বৈঠকের মূল পর্ব শুরুর আগেই সুইজারল্যান্ডের ভেন্যুতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যৌথভাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে বৈঠক করেছেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার প্রথম পর্বে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর (পাকিস্তান ও কাতার) সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন ইরানি প্রতিনিধিরা। মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এই অভ্যন্তরীণ আলোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি হাই-প্রোফাইল ‘চতুর্পাক্ষিক বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী ‘হরমুজ প্রণালি’র স্থায়ী ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের এই সরাসরি সংলাপ বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :