ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

ডলারে তেল বিক্রির সুযোগ পেল ইরান, তবে পরমাণু পরিদর্শনের দাবি প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

ডলারে তেল বিক্রির সুযোগ পেল ইরান, তবে পরমাণু পরিদর্শনের দাবি প্রত্যাখ্যান

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা শেষ হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশই আগামী ‘৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ’ তৈরিতে সম্মত হয়েছে। এই রোডম্যাপের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ স্বরূপ ইরানের ওপর থেকে প্রধান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে মওকুফ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরান সরাসরি মার্কিন ডলারে তাদের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিশ্ববাজারে বিক্রি করার ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে।

তবে এই বড় অর্জনের পরপরই পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর পরিদর্শকদের অবিলম্বে ইরানে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তবে তাদের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী ২১শে আগস্ট পর্যন্ত (৬০ দিন) ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এই ছাড়ের আওতায় ইরান এখন থেকে তেল বিক্রির জন্য অতীতে ব্যবহৃত জটিল ও গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করেই সরাসরি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহনের সুবিধা পাবে। এমনকি এই শিথিলের ফলে ইরানি তেল এখন সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আমদানি করা যাবে।

তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দাবি, এই ৬০ দিনের বিশাল ছাড়ের বিনিময়ে তেহরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং আইএইএ-এর পরমাণু পরিদর্শকদের পুনরায় দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছিল।

সোমবার সকালে সাংবাদিকরা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে জানতে চান, আইএইএ পরিদর্শকরা কবে ইরানে ফিরবেন? জবাবে ভ্যান্স আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, এই প্রক্রিয়া “এই সপ্তাহের মধ্যেই” শুরু হবে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করে দাবি করেন যে, ইরান অবশেষে “প্রধান অস্ত্র পরিদর্শনে সম্মত হবে”।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পরমাণু পরিদর্শনের বিষয়ে তেহরান “নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি”। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের পরিদর্শকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা পরিদর্শনের অনুমতি কেবল “ইরানের পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিদ্যমান আইনের অধীনেই” নির্ধারিত হবে, মার্কিন চাপে নয়।

উল্লেখ্য, গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যেসব ইরানি স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল, সেখানে জাতিসংঘের পরিদর্শনের সুযোগ স্থগিত করে দিয়েছিল তেহরান। পরবর্তীতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাও তাদের পরিদর্শকদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

সুইজারল্যান্ডের এই আলোচনা চলাকালীন ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, চুক্তি না মানলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও “ইরানের ওপর কঠোর আঘাত” করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন উসকানিমূলক পোস্টের পর ক্ষুব্ধ হয়ে আলোচনা মাঝপথেই বয়কট করে ওকআউট করেন ইরানের প্রধান আলোচকরা। যদিও দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ওভাল অফিস থেকে ইরানের উদ্দেশে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরান যদি তাদের চুক্তি মেনে না চলে বা আচরণ ঠিক না রাখে, তবে আমি যা করার তা-ই করব।”

চুক্তির জটিলতার মাঝেই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি সার্বক্ষণিক ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা’ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের স্থায়ী অবসান ঘটাতে ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবানন’-এর সমন্বয়ে একটি বিশেষ ‘সংঘাত নিরসন সেল’ গঠনে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে।

লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতিকে এই শান্তি প্রক্রিয়ার “আসল পরীক্ষা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যদিও গত শনিবার রাত থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র লড়াই অনেকটাই কমে এসেছে এবং একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো পর্যন্ত বজায় রয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!