ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

বিকল্প পথে ১ লাখ টন তেল আনছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

বিকল্প পথে ১ লাখ টন তেল আনছে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’তে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ। উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা এড়াতে এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এই তেল সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হবে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থিত রাস তানুরা বন্দরের পরিবর্তে এবার ইয়ানবু বন্দরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইয়ানবু বন্দরটি লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে তেলবাহী জাহাজকে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালি পার হতে হবে না। ফলে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা ছাড়াই তেলবাহী ট্যাংকারটি সরাসরি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারবে। আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোড করার কথা রয়েছে।

এদিকে, ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামক একটি জাহাজে থাকা আরও এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল গত এক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। সম্প্রতি ইরান বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিলেও তেলের এই বিশেষ জাহাজটি সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, “জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। আমরা ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছি। অনুমতি মিললেই এই জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে রওনা হবে।”

মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ইয়ানবু থেকে আসা নতুন জাহাজ এবং আটকে পড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ এই দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, এই পরিমাণ ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে দেশের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরানো সম্ভব হবে।

পরিশোধনের পর সম্ভাব্য উৎপাদন: ডিজেল ৫২ হাজার মেট্রিক টন। পেট্রোল ৩২ হাজার মেট্রিক টন। অকটেন ১৬ হাজার মেট্রিক টন। ফার্নেস অয়েল ৪৮ হাজার মেট্রিক টন।  কেরোসিন ৪২ হাজার মেট্রিক টন।

বিএসসি জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৩টি জ্বালানি ও গ্যাসুবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। নতুন এই ২ লাখ টন তেল বাজারে এলে দেশে চলমান জ্বালানি সংকট অনেকটাই লাঘব হবে। বিশেষ করে পরিবহন ও শিল্প খাতে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!