ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

ঈদের সময় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, ৩ পথ মিলিয়ে নিহত ৪৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

ঈদের সময় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, ৩ পথ মিলিয়ে নিহত ৪৩৮

সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ও পরে সারা দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক হাজার ২৯৪ জন। সড়কপথের পাশাপাশি রেল ও নৌপথ মিলিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন মানুষ এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ৩৪০ জন।

আজ রবিবার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঈদযাত্রা শেষে দুর্ঘটনার এই লোমহর্ষক ও উদ্বেগজনক চিত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে সড়ক, রেল ও নৌ এই তিন মাধ্যমের দুর্ঘটনার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, ঈদের এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ৩৯৪টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪০২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে রেলক্রসিং ও রেললাইনে কাটা পড়ে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশে ঈদের সময় ১৭টি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দেশের কোটি কোটি মানুষ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং যাতায়াতের ভোগান্তি স্থায়ীভাবে কমাতে শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারের ১০-১২ দিনের বিশেষ তৎপরতা কোনো কাজেই আসবে না।”

তিনি সরকারের পরিবহন খাতের সংস্কারের দাবি জানিয়ে আরও বলেন, “মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এই অকাল মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে শুধু মৌসুমি তৎপরতা বাদ দিয়ে বছরব্যাপী সুনির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল, চালকদের একটানা গাড়ি চালানো ও ক্লান্তি, বেপরোয়া গতিতে ওভারটেকিং, মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণেই প্রতি ঈদে সড়কগুলো ডেথ ট্র্যাপ বা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা, দক্ষ চালক তৈরি, মহাসড়কে ছোট ও ধীরগতির যানবাহন পৃথক করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!