ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

পুশ-ইন বন্ধে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

পুশ-ইন বন্ধে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক ‘পুশইন’ বা অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা বন্ধে ইতিমধ্যেই ভারতের রাজধানী দিল্লিকে ১২ থেকে ১৩টি কূটনৈতিক চিঠি (নোট ভারবাল) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুশইনের মতো যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আজ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ভারতের পুশইন চেষ্টার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “যেকোনো দেশে অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত হলে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে নিজ দেশে ফেরত আনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নির্দিষ্ট আইনি মেকানিজম বা প্রক্রিয়া রয়েছে। বাংলাদেশও তার নাগরিকদের ক্ষেত্রে এটি অনুসরণ করে, ভারতও তাদের জায়গা থেকে এটি ফলো করে। কিন্তু সেই মেকানিজম এড়িয়ে ‘পুশইন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউকে জোরপূর্বক সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হবে তা কিন্তু একেবারেই গ্রহণযোগ্য না।”

তিনি জানান, যখনই দেশের কোনো সীমান্ত পয়েন্টে পুশইনের ঘটনার রিপোর্ট আসছে, তখনই বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত দিল্লিকে এমন ১২ থেকে ১৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভারতকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “বাংলাদেশে যদি কোনো অবৈধ ভারতীয় নাগরিক থাকে কিংবা ভারতে যদি বাংলাদেশের কোনো অবৈধ নাগরিক অবস্থান করে, তবে দ্বিপাক্ষিক মেকানিজম ও কূটনীতি অবলম্বন করেই দুই দেশকে কাজ করতে হবে। আমরা সব ধরনের ডিপ্লোমেটিক নর্মস (কূটনৈতিক নিয়ম) মেনে চলছি এবং ভারতের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করি।”

তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা আশা করবো ভারত সরকার এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে (সিরিয়াসলি) নেবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করবে। কোনোভাবেই এই পুশ-ইনের মাধ্যমে তারা যদি এটা করার চেষ্টা করে, তবে অবশ্যই তা আমাদের জন্য ভালো হবে না এবং তা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। “কোনোভাবেই আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন অ্যালাউ (অনুমতি) করছি না।”

একই সাথে তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া মেনে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার কাজও চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারতের চেন্নাইয়ে আটকে পড়া ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবির বিশেষ টহল ও রাতভর মাইকিংয়ের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিল্লির প্রতি ঢাকার স্পষ্ট বার্তা যে, সীমান্ত নীতিতে বাংলাদেশ কোনো ধরনের একতরফা চাপ বা বেআইনি পুশইন মেনে নেবে না।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!