এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন এবং বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক কর্মসূচির কারণে সায়েন্সল্যাব ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনের সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের ফলে মিরপুর রোড, শাহবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, তার ওপর মুষলধারে বৃষ্টির কারণে অফিসফেরত যাত্রী, রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর দেড়টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে অবস্থান নেন একদল এইচএসসি পরীক্ষার্থী, যার ফলে ঢাকামুখী ও গাজীপুরমুখী যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর আড়াইটার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড়েও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে রাজধানীর দুটি ব্যস্ততম এলাকায় একযোগে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আটকে পড়া বাসের যাত্রীদের অনেককে বাধ্য হয়ে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা দিতে দেখা যায়। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গাবতলী পরিবহনের চালক রতন মিয়া জানান, গাড়ি নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড় পার হওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, কখন ছাড়া হবে তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।
বাসের যাত্রী কামাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, সামান্য কিছু হলেই সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানজট ও বৃষ্টির জোড়া ফলায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন চাকরিপ্রার্থী শাকিল আহমেদ। টঙ্গী থেকে গুলশানে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসে তিনি যানজটে আটকা পড়েন এবং বৃষ্টির মধ্যে বাস থেকে নেমে কাকভেজা হয়ে বাধ্য হয়ে তাকে বাসায় ফিরে যেতে হয়। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমান হোসেনও ক্লাস শেষে ফেরার পথে একই রকম ভোগান্তির শিকার হন।
সড়কে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মূল ক্ষোভ ছিল বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া এবং গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে থাকা ত্রুটি নিয়ে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা এবং ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা। শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি তোলা হলেও দিন শেষে শিক্ষার্থীরা সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
অন্যদিকে, বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র, মাদরাসা বোর্ডে আরবি সাহিত্য দ্বিতীয়পত্র এবং কারিগরি বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে কেবল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের অন্য সব বোর্ডে পরীক্ষা যথারীতি চলবে। সড়ক অবরোধের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজটের রেশ রয়ে যায়, যা নগরবাসীকে দীর্ঘ সময় ভুগিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :