ফেসবুকে ‘তান্ত্রিক’ সেজে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক জোড়া লাগানো এবং জাদুটোনা দূর করার নামে ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চক্রটি শুধু দেশেই নয়, ভারতীয় সিম ও গুগল পে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ থেকেও বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত।
সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। গত ২৪ জুলাই কুমিল্লা ও নোয়াখালী থেকে অহিদ মিয়া ওরফে কুয়েত, মাহে আলম ও মো. হাসান আলী নামে চক্রের এই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ফেসবুকে ‘তান্ত্রিক কবিরাজ’, ‘হোসেন কবিরাজ’, ‘আসমা কবিরাজ’ ও ‘রহমত আলী কবিরাজ’ ইত্যাদি নামে একাধিক ভুয়া আইডি খুলে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ করত।
সম্পর্ক জোড়া লাগানো বা জাদুটোনা দূর করার ফাঁদে ফেলে তারা ভুক্তভোগীদের পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও রসালো মিষ্টি একত্রে ধরে রাখার নির্দেশ দিত। এই দুটি উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের শরীরে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হতো। পরবর্তীতে সেই ক্ষত জ্বীনের মাধ্যমে সারিয়ে তোলার মিথ্যা আশ্বাস এবং জ্বীনের ভয় দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিত।
এই ধরনের অভিনব প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়। এদের মধ্যে দুজন আসামি ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পেরেছে, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ অহিদ মিয়ার নম্বরে স্থানান্তর করা হতো এবং মাহে আলম তার নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ সিম ব্যবহার করে প্রধান অভিযুক্তকে সহায়তা করতেন।
এছাড়া চক্রটি বাংলাদেশ-ভারত জাফলং সীমান্ত থেকে ভারতীয় সিম সংগ্রহ করে সেখানেও ভুয়া ফেসবুক পেজ চালাত এবং গুগল পে-এর মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকেও অর্থ আত্মসাৎ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসত। এই চক্রের অন্য পলাতক সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।


আপনার মতামত লিখুন :