ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনীতির হাওয়া ভিন্ন দিকে বইতে শুরু করেছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয় ও তেজগাঁও কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, অন্যদিকে সারা দেশে এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ছে যাকে অনেক বিশ্লেষক ‘রাজনৈতিক ডিলেমা’ হিসেবে দেখছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করেই ঝটিকা মিছিল আর দলীয় কার্যালয়ের তালা খোলার উৎসবে মেতেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এই সাহসের উৎস কোথায়?
সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ে। সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মানুষের মনে হাজারো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি কি কোনো গোপন সমঝোতা, নাকি স্রেফ স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ? যদিও বিএনপি নেতা দাবি করেছেন তিনি জানতেন না এটি আওয়ামী লীগের অফিস, কিন্তু সচেতন নাগরিক সমাজ এই ব্যাখ্যা সহজভাবে নিতে পারছে না।
এদিকে দিল্লিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানকে ঘিরে ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ এবং ‘পুলিশ হত্যার দাবি’র যে বিতর্ক ভারতীয় গোয়েন্দাদের মাধ্যমে সামনে এসেছে, তা পুরো ছাত্র রাজনীতিকে এক বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। একদিকে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের চেষ্টা, অন্যদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে বিতর্কিত সব অভিযোগ সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছে দেশ।
নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই ‘রাজনৈতিক ধোঁয়াশা’ পরিষ্কার করা। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তারা যেভাবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করছে, তাতে কি নতুন সরকারের প্রশাসনিক সংহতি ব্যাহত হবে? নাকি এটিই হতে যাচ্ছে গণতান্ত্রিক উদারতার নতুন নজির?
জনগণ কেবল একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ চায়। যেখানে রাজনীতির মাঠ হবে উন্মুক্ত, কিন্তু বিচারের কাঠগড়া হবে সমান। কার্যালয় খোলা বা বন্ধের চেয়েও এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণের নিরাপত্তা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হোক নতুন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
ওমর ফারুক, গণমাধ্যমকর্মী


আপনার মতামত লিখুন :