ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
Daily Global News

মাটির রাজনীতি থেকে সচিবালয়: এক কর্মবীর প্রতিমন্ত্রীর উত্থানগাথা

ডিজিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

মাটির রাজনীতি থেকে সচিবালয়: এক কর্মবীর প্রতিমন্ত্রীর উত্থানগাথা

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র আছেন, যাঁদের পরিচয় কেবল কোনো নির্দিষ্ট পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁরা হয়ে ওঠেন এক একটি জনপদের প্রতিনিধি, মাটির মানুষের কণ্ঠস্বর। তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের আসনে বসা এমনই এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব মীর শাহে আলম। বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিকের জীবনবৃত্তান্ত যেন বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ ও অর্থনীতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

মীর শাহে আলমের রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছিল গ্রাম বাংলার ধুলোবালি আর মেহনতি মানুষের সংস্পর্শে। সাধারণ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা এই নেতার শৈশব ছিল গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা অভাব আর সংগ্রামের মিশেল। ছাত্রজীবনেই তাঁর মধ্যে রোপিত হয়েছিল জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের বীজ। সহপাঠীদের সংকট হোক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা সবখানে তিনি ছিলেন সোচ্চার। সেই ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়িই তাঁকে আজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী টেবিলে নিয়ে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলমের কাজের ধরনে দেখা যায় এক ধরনের ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রোচ’ বা বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের প্রকৃত প্রাণশক্তি নিহিত আছে গ্রামে। তাই তাঁর কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকে গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং সমবায় খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে তিনি এক ‘স্মার্ট গ্রাম’ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ডিজিটাল সমবায় ডাটাবেজ তৈরি এবং নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টি এখন জাতীয়ভাবে প্রশংসিত।

রাজনীতির সমান্তরালে মীর শাহে আলমের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা তাঁর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বাজার ব্যবস্থা, সাপ্লাই চেইন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার বাস্তব জ্ঞান থাকায় তিনি সহজেই অনুধাবন করতে পারেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংকট কোথায়। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর সিদ্ধান্তগুলো তাই কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং প্রয়োগযোগ্য ও বাস্তবমুখী হয়ে ওঠে।

মীর শাহে আলমের নেতৃত্বের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর সরাসরি তদারকি। এসি রুমে বসে কেবল ফাইলের নির্দেশ দিয়ে তিনি ক্ষান্ত হন না; বরং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে তিনি নিজেই ছুটে যান প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রশাসনের সাথে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। যদিও উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে মাঝেমধ্যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, তবুও নিজের দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বিচ্যুত হন না।

মীর শাহে আলমের ভবিষ্যৎ ভাবনায় গ্রামই হচ্ছে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তিনি মনে করেন, গ্রামকে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, ডিজিটাল সেবা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে পারলে শহরের ওপর চাপ কমবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন টেকসই হবে।

সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধই মীর শাহে আলমের রাজনীতির মূল পুঁজি। একজন সংগঠক, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারক এই তিন সত্তার অপূর্ব মেলবন্ধনে তিনি আজ এক বহুমাত্রিক নেতা। তাঁর এই অগ্রযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নেতৃত্বের আসল শক্তি আসে মানুষের আস্থা আর মাটির মমতা থেকে। সেই শক্তিকে ধারণ করেই মীর শাহে আলম এগিয়ে চলেছেন গ্রাম থেকে শহরের দিকে, বাস্তবতা থেকে স্বপ্নের পথে।

লিখেছেন- জিএম মিজান বগুড়া থেকে।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!