চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার খৈয়াছরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে প্রায় ৭ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।
জানাজায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় যখন মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন নিজেই ইমামতি করার সিদ্ধান্ত নেন। জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি নুরুল আমিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “কামাল আমার নিজের সন্তানের মতো ছিল। তার এই অকাল মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছি না।” একজন সংসদ সদস্যের নিজের হাতে কর্মীর জানাজা পড়ানো এবং এভাবে শোকাতুর হওয়া উপস্থিত সবাইকে স্তম্ভিত করে দেয়।

জানাজার আগে নিহত কামালের পুত্র আরাফাতুল ইসলাম মুন্না অভিযোগ করেন যে, তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু কুচক্রী মহল কিছুদিন ধরে আমার বাবাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক লেখালেখি করছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে মেরেই ফেলা হলো। যারা আমাদের এতিম করেছে, প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাই।”
বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিনের জানাজায় রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। বক্তব্য রাখেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী এবং উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় ব্যবসায়িক কাজ শেষে ফেরার পথে একটি ড্রামট্রাক কামালের ব্যক্তিগত গাড়িকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঘাতক ড্রামট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক খলিল হাওলাদারকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :