ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

কৃত্রিম সূর্যের দিকে এক ধাপ এগোল বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

কৃত্রিম সূর্যের দিকে এক ধাপ এগোল বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম সূর্য বা নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতি অর্জন করেছেন, যা শক্তি উৎপাদনের ভবিষ্যতকে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নিউক্লিয়ার ফিউশন হলো সেই প্রক্রিয়া যেখানে হাইড্রোজেন পরমাণু একত্রিত হয়ে হিলিয়াম উৎপন্ন করে প্রচুর পরিমাণে শক্তি ছাড়ে, ঠিক যেমন প্রকৃত সূর্যে ঘটে। এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ হলে পৃথিবীর শক্তি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি পরিষ্কার, নিরাপদ এবং প্রায় অশেষ শক্তি উত্পাদন করতে সক্ষম। প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় ফিউশন শক্তি পরিবেশের জন্য অনেক কম ক্ষতিকর। কার্বন নিঃসরণ নেই, এবং রেডিওঅ্যাকটিভ বর্জ্যের পরিমাণ প্রচলিত নিউক্লিয়ার শক্তির চেয়ে অনেক কম। এর ফলে শক্তি উৎপাদন একেবারে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব হতে পারে।

তবে, বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক না কেন, এটি কেবল আল্লাহর সৃষ্টি করা এই মহাবিশ্বের সীমিত ক্ষমতার একটি ছোট অংশ নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা। ইসলামে বলা হয়েছে, “আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো কিছু সম্ভব নয়।” মানুষ যে কৃত্রিম সূর্য তৈরি করছে, তা আল্লাহর ক্ষমতার নিকট নিছক মানব সীমাবদ্ধ প্রচেষ্টা মাত্র। বিজ্ঞান আমাদের সাহায্য করতে পারে, কিন্তু প্রকৃত শক্তি সব সময় আল্লাহর নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

সাম্প্রতিক পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে কৃত্রিম সূর্য হিসেবে পরিচিত ফিউশন রিয়েক্টরগুলোর মধ্যে তাপমাত্রা, চাপ এবং শক্তি নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীলভাবে সম্ভব হয়েছে। হাইড্রোজেন আয়ন একত্রিত হয়ে বিশাল তাপ উৎপন্ন করছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে এই প্রচেষ্টা যতই উন্নত হোক, এটি কখনোই আল্লাহর সৃষ্ট সৌর শক্তির পূর্ণ ক্ষমতার সমতুল্য হতে পারে না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপের কিছু দেশ ইতিমধ্যেই ফিউশন রিয়েক্টর তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আগামী দশকের মধ্যে কৃত্রিম সূর্য থেকে উৎপন্ন শক্তি গ্রিডে সংযোগ করা সম্ভব হবে, যা বিশ্বকে শক্তি সংকট থেকে মুক্ত করতে পারে।

ফিউশন শক্তি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও প্রায় অশেষ। কিন্তু মানুষ যেন এই অগ্রগতি নিয়ে অহংকার না করে, ইসলামে বলা হয়েছে, “কোনো জ্ঞান, ক্ষমতা বা সৃষ্টি আল্লাহ ছাড়া সম্ভব নয়।” এই প্রযুক্তি আমাদের দেখাচ্ছে কিভাবে আমরা আল্লাহর সৃষ্টি ও নিয়ম মেনে, সীমাবদ্ধ মানব বুদ্ধি ব্যবহার করে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি।

নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তি আমাদের দেখাচ্ছে কিভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করতে পারে, তবুও আমরা সব সময় মনে রাখব যে প্রকৃত শক্তি ও সম্ভাবনা আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে। এটি শুধু বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, বরং মানুষের চেষ্টা এবং আল্লাহর অনুগ্রহের মিশ্র ফলাফল।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!