আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশিতে ভেসে বেড়ানো বিলাসবহুল প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ এখন এক আতঙ্কের নাম। গত এক মাসে এই জাহাজে থাকা বা ভ্রমণের পর হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রমোদ ভ্রমণ এখন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ এখন তাদের নাগরিকদের খুঁজে বের করতে মরিয়া, যারা এই জাহাজে ভ্রমণের পর দেশে ফিরে গেছেন।
গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনসের এই জাহাজটি। উদ্দেশ্য ছিল দুর্গম দক্ষিণ জর্জিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল ভ্রমণ। কিন্তু ১১ এপ্রিল একজন ডাচ যাত্রীর রহস্যময় মৃত্যুতে ছন্দপতন ঘটে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী এবং একজন জার্মান নাগরিকও মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে, এরা হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজ থেকে উদ্ধারকৃতদের দেহে ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ পাওয়া গেছে। হান্টাভাইরাসের এই নির্দিষ্ট ধরনটি বিরল হলেও মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম।

হান্টাভাইরাস কী, লক্ষণ ও ঝুঁকি: হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর শুকনো মল, মূত্র বা লালা বাতাসে ধূলিকণার মতো মিশে থাকে, যা নিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে।
এইচপিএস (পালমোনারি সিনড্রোম): এটি সরাসরি শ্বাসতন্ত্রে আঘাত হানে। ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথার পর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সিডিসি-র মতে, এই ধরনে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।
এইচএফআরএস (রেনাল সিনড্রোম): এটি মূলত কিডনি বিকল করে দেয় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটায়।
বর্তমানে এই ভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই; লক্ষণ অনুযায়ী আইসিইউ সাপোর্ট এবং ভেন্টিলেশনই প্রধান ভরসা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভে স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়। হান্টাভাইরাস অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ সংস্পর্শ ছাড়া একজনের দেহ থেকে অন্যজনে ছড়ায় না। ফলে সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি এখনো অনেক কম।
তবে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেইয়েসুস সতর্ক করেছেন যে, এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা লক্ষণ প্রকাশের সময় প্রায় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। তাই আরও কিছু সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :