আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হন্দিয়াস’ নামের একটি প্রমোদতরীতে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই সংক্রমণে জাহাজের তিন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আক্রান্ত সন্দেহে আরও তিনজনকে জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেদারল্যান্ডসে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হান্টাভাইরাস মূলত একগুচ্ছ ভাইরাসের সমষ্টি, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ জাতীয় ক্ষুদ্র প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীর লালা, মল-মূত্র বা এদের বসবাসের স্থানের ধূলিকণা নিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ ঘটে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’-এর মতে, আমেরিকা মহাদেশে এই ভাইরাসের কারণে সরাসরি শ্বাসতন্ত্র আক্রান্ত হয় (এইচসিপিএস), যাতে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে এশিয়া ও ইউরোপে এটি কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে (এইচএফআরএস)। দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস জানিয়েছে, জাহাজ থেকে উদ্ধারকৃতদের দেহে ‘আন্দেস ভাইরাস’ পাওয়া গেছে, যা বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম টেইলর জানান, এটি সাধারণত প্রাণীর বর্জ্য থেকে ছড়ায়, তাই জাহাজে নেওয়া বর্তমান ব্যবস্থাগুলো কেবল সতর্কতামূলক। তবে লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ রজার হিউসন মনে করেন, যাত্রীরা জাহাজে ওঠার আগে না কি যাত্রাপথের কোনো দ্বীপে নেমে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হতে জিনোম সিকোয়েন্সিং জরুরি।
উল্লেখ্য, জাহাজটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করে অ্যান্টার্কটিকা ও সেন্ট হেলেনার মতো বিভিন্ন দ্বীপে যাত্রাবিরতি দিয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :