সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ছোঁয়াচে রোগ হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া ১টি শিশু এবং হামের অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে বাকি ৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল আটটা থেকে আজ সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ১ জন শিশুর মৃত্যু নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
একই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের তীব্র উপসর্গ (যেমন তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট) নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও ৭টি শিশু।
হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই সর্বোচ্চ ৩ জন শিশু হামের উপসর্গে মারা গেছে। এছাড়া রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগে ১ জন করে মোট ৫ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হামের প্রকোপে মৃত্যুর সংখ্যা এক ভয়াবহ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত আড়াই মাসে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে মারা গেছে ৯২ জন শিশু। আর হামের জটিল উপসর্গ (বিশেষ করে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও পুষ্টিহীনতা) নিয়ে মারা গেছে আরও ৫৩৬ জন শিশু।
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৬২৮টি শিশুর অকাল মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের প্রায় সবারই বয়স ৫ বছরের কম বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের যথাসময়ে ‘এমআর’ (হাম ও রুবেলা) টিকা না দেওয়া এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণেই এবারের মৌসুমে হামের এই প্রাণঘাতী রূপ দেখা দিয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বায়ুবাহিত রোগ হওয়ায় এটি দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়াচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে তাকে অবহেলা না করে অবিলম্বে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :