যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর তার পরিকল্পিত একটি ‘ব্যাপক’ সামরিক হামলা বাতিল করে সোমবার থেকে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের তিনি জানান, একটি সমঝোতার মানদণ্ডে উভয় পক্ষ একমত হওয়ায় এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অনুরোধেই তিনি এই ভয়াবহ হামলা স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন।
ট্রাম্পের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা হতে পারত। মিত্ররা মূলত হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির আশা থেকেই হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিল। তবে এই নতুন আলোচনার স্থান বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। মূলত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয় বলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এর বড় প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে, নতুন আলোচনার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর মার্কিন হামলা স্থগিতের পেছনে তেহরানের অনুরোধ থাকার দাবিটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক বা জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকিসহ চরম হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ মুহূর্তে এসে কূটনীতিকেই সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন। যদিও এর আগে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক মুখোমুখি আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
এদিকে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চলমান এই যুদ্ধ এবং এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :