ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Daily Global News

মরক্কো থেকে সেউতায় অবৈধ অনুপ্রবেশ: সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপে জরুরি বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

মরক্কো থেকে সেউতায় অবৈধ অনুপ্রবেশ: সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপে জরুরি বৈঠক

গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী স্পেনের দূরবর্তী অঞ্চল সেউতায় অনুপ্রবেশের পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে গোটা ইউরোপে। এই উদ্ভূত সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার অনুপ্রবেশকারীর কথা ধারণা করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ অভিবাসী মরক্কোয় ফিরে গেছেন। তবে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই আকস্মিক অনুপ্রবেশের ঘটনায় স্পেন সীমান্তে ৭২ জন এবং মরক্কো সীমান্তে ১১ জনের নিহত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সেউতার এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে নতুন করে দৃশ্যমান টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশের জেরে ইতালি ইতোমধ্যে স্পেনের সাথে তাদের শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যে সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক।

এমনকি চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিস স্পেনের শেনজেন সদস্যপদই সাময়িকভাবে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

এর কড়া প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্মরণ করিয়ে দেন যে, মূল ভূখণ্ডের বাইরের অঞ্চল সেউতা শেনজেন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। কিছু দেশ রাজনৈতিক স্বার্থ, কুসংস্কার বা অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে অযৌক্তিকভাবে স্পেনকে আক্রমণ করছে বলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন সীমান্ত নিরাপত্তায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে একটি চিঠিতে ইইউ দেশগুলোকে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব বহিঃসীমান্ত রক্ষা করাকে ‘যৌথ দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে উরসুলা ফন ডার লিয়েন অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্বিগুণ করার তাগিদ দিয়েছেন। সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রথমেই অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সীমান্তকে আরও শক্তিশালী করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করা, মানব পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস এবং অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিযোগ করেছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের কারণে সমুদ্রপথে আসা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ার সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে মানব পাচারকারীরা।

তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্ডে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এবং সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ স্থায়ীভাবে ঠেকাতে ‘ইনফ্ল্যাটেবল ব্যারিয়ার’ বা বাতাসভর্তি লম্বা প্লাস্টিকের প্রতিবন্ধকতা স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সূত্র: বিবিসি

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!