ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
Daily Global News

এলএনজি সরবরাহ কমায় তীব্রতর হচ্ছে দেশের গ্যাস সংকট

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

এলএনজি সরবরাহ কমায় তীব্রতর হচ্ছে দেশের গ্যাস সংকট

এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকাসহ তিতাস গ্যাসের আওতাধীন সকল এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের প্রান্তে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যহারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলেরেটের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর ফলে ইতিমধ্যেই দৈনিক গড়ে ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি চলছে। এই ঘাটতি পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণকালে সেটিও কমে যাচ্ছে।

একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে, বিশেষ করে বসতবাড়িগুলোতে এই সংকটের প্রভাব তীব্র। রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন যে, সকাল ও সন্ধ্যায় রান্নার সময়ে চুলায় পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় তারা রান্না করতে পারছেন না। শীত মৌসুমে এই অসুবিধা আরও প্রকট হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও। বহু শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন ঠিক রাখতে কোথাও কোথাও শিফট কমানো বা আংশিক উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের ঘাটতির কারণে অধিক মূল্যের বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ব্যয়ে।

পাইপলাইন গ্যাসের প্রধান বিকল্প এলপিজির বাজারেও চলতি মাসের শুরু থেকেই সরবরাহ সংকট ও দামের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীত মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবহণ জটিলতা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পেতে দেরি হচ্ছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে এলএনজি সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। তবে সার্বিক চাহিদা-সরবরাহের ঘাটতির কারণে সব খাতে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সংস্থাটি এই সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংকটকালে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ীভাবে গ্যাস ব্যবহারের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ডিজিএন

banner
Link copied!