ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
Daily Global News

‘হ্যাঁ’ জিতলে বাধ্যতামূলক হবে ৮৪ সংস্কার প্রস্তাব

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

‘হ্যাঁ’ জিতলে বাধ্যতামূলক হবে ৮৪ সংস্কার প্রস্তাব

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আলাদা ব্যালটে এই গণভোটে অংশ নেবেন ভোটাররা।

গণভোটের ব্যালটে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে মাত্র চারটি বিষয় উল্লেখ থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন রয়েছে কি না এই প্রশ্নে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদান করবেন।

গত কয়েকদিন ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে গণভোট বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শুরুতে সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে গণভোটের বিষয়টি তুলে ধরলেও পরবর্তীতে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় নামে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য একটি ভিডিও বার্তা দেন। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,

“‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।”

৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও গণভোটের সিদ্ধান্ত: সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সাংবিধানিক এবং বাকি ৩৭টি আইন, অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সরকার।

তবে এই ৮৪টি প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে। শুরুতে প্রস্তাব ছিল যেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলের আপত্তি রয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সেসব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না। শেষ পর্যন্ত এই ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে সরকার গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদ জুলাই সনদের ৮৪টি ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর ‘না’ জয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে না।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় পেলে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদকে ২৭০ দিন বা নয় মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সংস্কার না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংবিধান সংশোধনী বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাস হয়েছে বলে গণ্য হবে।

তবে ব্যালটে মাত্র চারটি সংক্ষিপ্ত বিষয়ের উল্লেখ থাকায় অনেক ভোটারের পক্ষেই বোঝা কঠিন হতে পারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে বা আসবে না।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!