নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দেওয়া প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিআইবির দাবি করা ১৫ জন নিহতের তথ্য সঠিক নয়; পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী এই সংখ্যাটি আসলে পাঁচ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই অবস্থান ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, টিআইবি যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুকে `নির্বাচনকালীন হত্যা` হিসেবে গণ্য করেছে, যার পেছনে সবসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে না।
অন্যদিকে, সরকার শুধু সেই মৃত্যুগুলোকেই রাজনৈতিক হিসেবে গণ্য করছে, যার সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনি কর্মকাণ্ড বা প্রোফাইলের যোগসূত্র রয়েছে।
উপ-প্রেস সচিব জানান, এই সময়ের পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত নির্মম। এর উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ভয় সৃষ্টি করা, কিন্তু সেই লক্ষ্য সফল হয়নি।
তিনি দাবি করেন, টিআইবির প্রতিবেদনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অভাব রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অন্তত ১১৫ জন, ২০১৮ সালে ২২ জন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘চরম অবনতি’ বলা কঠিন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিগত সরকারের সময় পুলিশের ওপর জনগণের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে: বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা বদলি করা। গুম ও নির্যাতনের মামলায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ। বিশেষ ইউনিটগুলোর ভূমিকা পুনর্বিবেচনা। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।
সরকার স্বীকার করেছে যে, শতভাগ সহিংসতা রোধ করা হয়তো সম্ভব নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় সরকার একটি ভয়হীন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :