ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News

‘ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

‘ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।” শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যাদের সম্মান করে এবং কঠিন মুহূর্তে যাদের কাছে উপদেশের আশা করে, সেই ইমাম-খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় গুরু মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব যোগ্য ব্যক্তিকে এই আওতায় আনা হবে।

প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিংয়ে এখন থেকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে সরকারের নেওয়া মেগা প্ল্যানগুলো তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া চার কোটি নারী প্রধান পরিবারের জন্য এটি চালু হয়েছে। ফার্মার্স কার্ড (কৃষক কার্ড) আগামী ১৪ এপ্রিল (পয়লা বৈশাখ) থেকে কৃষকদের জন্য এই কার্ডের পাইলট প্রোগ্রাম শুরু হবে। খাল খনন কর্মসূচি আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। আমরা দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাঁবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।”

সাড়ে তিন লাখ মসজিদকে কেবল উপাসনার স্থান নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ এবং খালেদা জিয়া ‘মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা’ শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাকে আরও আধুনিক করছে।

ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “হিংসা ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ধর্মের উদার শিক্ষা অতুলনীয়। আপনারা উপাসনার পাশাপাশি কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চাইলে সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”

সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানকে ‘আবহমান ঐতিহ্যের বাংলাদেশ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বনির্ভর ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!