বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়, ইসলামে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। একটি সুখময় ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পছন্দ থাকা আবশ্যক। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের চাপে পড়ে মেয়েরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়েতে রাজি হতে বাধ্য হয়।
বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর সিদ্ধান্তের অধিকারকে ইসলাম ঠিক কীভাবে মূল্যায়ন করে, তা জানা প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য জরুরি।
কুরআনের নির্দেশনা বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: ‘তোমরা বিয়ে করো সেই স্ত্রীলোকদের, যাদের তোমাদের ভালো লাগে।’ (সূরা নিসা: ৩)
এই আয়াতটি স্পষ্ট করে যে, দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত পছন্দ ও মানসিক প্রশান্তি।
রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ ও নারীর অধিকার নবীজি (সা.)-এর সময়ে এক তরুণী এসে অভিযোগ করেছিলেন যে, তার বাবা তার অনিচ্ছায় তাকে বিয়ে দিয়েছেন। তখন রাসূল (সা.) সেই বিয়ে রাখা বা না রাখার পূর্ণ ইখতিয়ার মেয়েটির ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।
মেয়েটি তখন বলেছিল, ‘আমার বাবা যা করেছেন তা আমি বহাল রাখলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের জানানো যে, বিয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বাবাদের একক এখতিয়ার নেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৭৪)
পরিবারের ভূমিকা ও সতর্কতা ইসলাম বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের (ওয়ালি) গুরুত্বকেও অস্বীকার করে না। অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়ে মেয়েরা এমন কাউকে পছন্দ করতে পারে, যা তার সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পারিবারিক মর্যাদা: যদি পাত্রের সামাজিক বা নৈতিক মান পরিবারের চেয়ে অনেক নিম্নস্তরের হয়, যা পরিবারের সম্মানে আঘাত করতে পারে, তবে অভিভাবক সেই বিয়েতে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখেন।
হারাম সম্পর্ক: মনে রাখা জরুরি, বিয়ের আগে কোনো ধরনের প্রেম বা অবৈধ সম্পর্ক ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। পছন্দের বিষয়টি হতে হবে পর্দার ভেতরে থেকে এবং শালীন উপায়ে।
একটি স্থিতিশীল পরিবারের জন্য জোরপূর্বক বিয়ে কখনোই কাম্য নয়। মা-বাবার উচিত সন্তানের পছন্দ-অপছন্দকে সম্মান করা এবং সন্তানের উচিত মা-বাবার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে মূল্যায়ন করা। উভয়ের সম্মতিতে সম্পন্ন হওয়া বিয়েতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও রহমত নাজিল হয়।


আপনার মতামত লিখুন :