চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমি মোড় সংলগ্ন মসজিদ পাড়া। এই পাড়ার নাম যার কারণে, সেই সুউচ্চ মিনার বিশিষ্ট তিন গম্বুজ মসজিদটি শুধু চুয়াডাঙ্গার প্রাচীনতম স্থাপত্যই নয়, বরং এই জনপদে ইসলামি ঐতিহ্যের প্রথম আলোকবর্তিকা। আনুমানিক ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে (১২০৮ হিজরি) নির্মিত এই মসজিদ থেকেই চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রথম আযানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছিল।
মসজিদটির ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে কুসুম বিবি নামের এক পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারীর নাম। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় মাটির নিচে কলসিভর্তি মোহর খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। সেই সম্পদ ভোগ-বিলাসে ব্যয় না করে এলাকাবাসীর পরামর্শে আল্লাহর ঘর নির্মাণে উৎসর্গ করেন। নিজের দান করা ৭৩ শতক জমিতে নিজ অর্থায়নেই গড়ে তোলেন এই মসজিদ।
লোকমুখে শোনা যায়, সেই আমলে সিমেন্ট না থাকায় ডিমের কুসুম ও সুরকির এক বিশেষ মিশ্রণ ব্যবহার করে মসজিদের দেয়াল ও ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। শুরুতে মাত্র ৭০ জন মুসল্লির ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সংস্কারের পর এখানে একসাথে প্রায় ৭০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ২০১৪ সালে মূল অবকাঠামো ঠিক রেখেই এর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ জামির হাসান জোয়ার্দ্দার জানান, ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমল পেরিয়ে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই স্থাপত্য। তবে বর্তমানে মসজিদের সুউচ্চ মিনারের তৃতীয় তলার বেলকনি অংশ ভেঙে গেছে। ওজুখানাও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। স্থানীয় মুসল্লিরা দ্রুত এই ঐতিহাসিক মিনারের সংস্কার দাবি করেছেন।
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও জুম্মার দিনে আশপাশের অন্তত সাত-আটটি পাড়ার মানুষ এখানে সমবেত হন। মসজিদটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং চুয়াডাঙ্গার সামাজিক ও ধর্মীয় শেকড়ের এক অটুট বন্ধন।


আপনার মতামত লিখুন :