আইসিসির সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করে বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। একই সঙ্গে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ খেলার সবুজ সংকেত মিলেছে।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জেরে বিসিবি দেশটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয় পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিলে আইসিসি ৬ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় পড়ে।
গত রোববার ও সোমবার (৮-৯ ফেব্রুয়ারি) দফায় দফায় বৈঠকের পর এই সংকট সমাধানের পথ খুলে যায়। আইসিসির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে: কোনো শাস্তি নয়: বিশ্বকাপ বর্জন করলেও বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তি আরোপ করা হবে না। ভবিষ্যৎ ইভেন্ট: ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ এককভাবে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে। ২০৩১ বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবেও থাকছে বাংলাদেশ। অধিকার বহাল: বিসিবি চাইলে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) দ্বারস্থ হতে পারবে, এই আইনি অধিকারও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি গতকাল রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর নিশ্চিত করেছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নামবে বাবর আজমের দল। এর আগে আইসিসি পাকিস্তানের সদস্যপদ স্থগিতের হুমকি দিলেও আর্থিক ক্ষতির মুখে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই সব সমাধান হয়।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা এক বিবৃতিতে বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে একটি প্রধান ক্রিকেট রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে আইসিসির অঙ্গীকার অপরিবর্তিত থাকবে।” যদিও বিসিবি ও পিসিবি যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করেছিল, তা মানেনি বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।


আপনার মতামত লিখুন :