বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত দেড় বছর ধরে যে একটি নাম ‘নিষিদ্ধ’ গল্পের মতো শোনাচ্ছিল, সেই সাকিব আল হাসান আবারও ফিরছেন জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই দেশে ফিরছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তাঁর লক্ষ্য আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের বর্ণিল ইতি টানা।
সাকিবের ফেরার পথ সুগম হয়েছে মূলত দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে। কয়েক মাস আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতি আনতে চাই না। সাকিব যদি যোগ্য হয় এবং ফর্মে থাকে, তবে সে অবশ্যই খেলবে।” বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিসিবি এখন সাকিবকে ফেরানোর আইনি ও প্রশাসনিক বাধাগুলো দূর করার কাজ শুরু করেছে।
সূত্রমতে, সাকিবের পরিকল্পনা এখন বেশ গোছানো। তিনি টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়ে শুধুমাত্র ওয়ানডে ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান। তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ডেইলি সান-এর তথ্যমতে, সাকিবের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, “তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে মনোযোগ দিতে চান যাতে ২০২৭ বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন।”
সাকিবকে দীর্ঘদিন ভুগিয়েছে চোখের ‘ম্যাকুলার ডিজেনারেশন’ সমস্যা। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। বোলিংয়ে ছন্দ খুঁজে পেলেও ব্যাটিংয়ে দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার জন্য ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি। চোখের সমস্যা কাটিয়ে ওঠায় এখন বল দেখার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি হবে সাকিবের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কানপুর টেস্টের পর থেকে তিনি জাতীয় দলের বাইরে। দীর্ঘ বিরতির পর ঘরের মাঠে চিরচেনা সমর্থকদের সামনে সাকিবের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি এক বড় চ্যালেঞ্জের নাম।
সূত্র: ডেইলি সান


আপনার মতামত লিখুন :