ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
Daily Global News

এক ডজন বিয়ে করা জীবননগরের ‘বিয়ে পাগল’ লিটন এবার শ্রীঘরে!

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ১১:৪২ এএম

এক ডজন বিয়ে করা জীবননগরের ‘বিয়ে পাগল’ লিটন এবার শ্রীঘরে!

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক ডজন বিয়ে করে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে লিটন মিয়া (৪০) নামের এক ‘বিয়ে পাগল’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী সর্বশেষ স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশোরের চৌগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়।

অভিযুক্ত লিটন মিয়া চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শাপলা কলিপাড়া এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে। লিটনের একের পর এক বিয়ে ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের লিটন মিয়ার সাথে যশোরের চৌগাছা উপজেলার নাজমুন নাহারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় লিটন নিজের অন্ধকার অতীত সম্পূর্ণ গোপন করে কেবল একটি বিয়ের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পার হতে না হতেই নাজমুন নাহারের ওপর চড়া হারে যৌতুকের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন লিটন।

যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৭ মে স্ত্রী নাজমুন নাহারকে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন লিটন। পরে তাঁকে জোরপূর্বক চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোরের চৌগাছায় বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়েও লিটন ক্ষান্ত হননি, বরং শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আবারও ওই গৃহবধূর ওপর শারীরিক লাঞ্ছনা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার নাজমুন নাহার জানান, বিয়ের পর তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন লিটন এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও অন্তত এক ডজন (১২টি) বিয়ে করেছেন। যৌতুকের লোভেই তিনি মূলত একের পর এক বিয়েকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লিটন মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১২টি বিয়ের কথা অস্বীকার করলেও, ৬ থেকে ৭টি বিয়ে করার কথা অবলীলায় স্বীকার করেন। তবে নিজের দোষ আড়াল করে লিটন দাবি করেন, “বিভিন্ন পারিবারিক কারণে আমি তাঁদের ডিভোর্স দিয়েছি অথবা স্ত্রীরাই আমাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে।”

ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, লিটনের এই পাশবিক নির্যাতনের পর তাঁরা প্রথমে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে স্থানীয় পুলিশ কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোরে এসে চৌগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন তাঁরা।

শাপলা কলিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লিটন একজন চিহ্নিত ‘বিয়ে পাগল’ ও যৌতুকলোভী মানুষ। এর আগের স্ত্রীরাও তাঁর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রাণ বাঁচাতে তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, লিটনের ভাইয়েরা এলাকায় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় প্রতিটি অপরাধের পর লিটন অনায়াসে পার পেয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, চুয়াডাঙ্গার এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। একজন নারীর জীবন ধ্বংসকারী এবং একাধিক বিয়ের নামে জালিয়াতি করা অভিযুক্ত লিটন মিয়াকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি গ্লোবাল নিউজ

banner
Link copied!