মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আঁচ এবার লাগল কুয়েতের সমুদ্রসীমায়। ইরান থেকে আসা একটি ড্রোনের আঘাতে কুয়েত উপকূলে একটি তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ট্যাংকারটি সাগরে ডুবে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএমটো) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর প্রচার করেছে।
ইউকেএমটো জানায়, বুধবার গভীর রাতে কার্গো জাহাজটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের পরপরই জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ধীরে ধীরে সাগরে তলিয়ে যায়। জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় সেখান থেকে তেল চুইয়ে সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্যাংকারে থাকা ক্রু সদস্যদের বরাত দিয়ে ইউকেএমটো জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজে থাকা সকল ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে তেহরান। কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি সক্রিয় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতেই তাদের মিত্রদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানছে ইরান।
এর আগে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি নৌ-জাহাজ ডুবি এবং তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘটনার পর কুয়েত উপকূলে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিল।


আপনার মতামত লিখুন :