ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২
Daily Global News
শুল্ক কমিয়েও লাভ নেই

এলপিজিতে নৈরাজ্য, সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৬০০-১৫০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

এলপিজিতে নৈরাজ্য, সিলিন্ডার প্রতি বাড়তি গুনতে হচ্ছে ৬০০-১৫০০ টাকা

সরকার এলপিজি আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট কমালেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। বাজারে শৃঙ্খলা না ফেরায় ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহককে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দিতে হচ্ছে। বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে রশিদ জালিয়াতির মাধ্যমে চলছে এই প্রকাশ্য লুটপাট।

বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা হলেও রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহককে ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ৪৫ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই বাড়তি খরচ আরও ভয়াবহ। উত্তরার এক হোটেলকর্মী জানান, মাসে ২০টি বড় সিলিন্ডার ব্যবহারে তাদের বাড়তি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

সাধারণ ক্রেতারা এই অগ্নিমূল্যে দিশেহারা। জেসমিন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, “একটি সিলিন্ডার ১৮৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। এভাবে চললে পরিবার নিয়ে চলা অসম্ভব।” আরেক ক্রেতা আফিদা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, ভাত কিনব নাকি এত দামের গ্যাস কিনব?”

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত অন্তত চার ধাপে সিলিন্ডার হাতবদল হয়। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকার নির্ধারিত রেটের চেয়ে ১০০-১৫০ টাকা বেশি নিলেও কোনো রশিদ দেয় না। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। মূলত রশিদ জালিয়াতির সুযোগ নিয়েই এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

দাম নিয়ে নৈরাজ্যের দায় বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংস্থাটির সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ দাবি করেন, লাইসেন্সধারী অপারেটররা বিইআরসির দামেই বিক্রি করেন, কিন্তু খুচরা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দাম বাড়ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তাদের লোকবল সংকটের কথা স্বীকার করেছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে বাজার তদারকি বাড়াতে আমরা পুনরায় জেলা প্রশাসনের সহায়তা নেব এবং মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না; কঠোর তদারকি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!