ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Daily Global News

ট্রাম্পের যুদ্ধ ও ‘সিলভার বুলেট’ থিওরি: হরমুজ সংকটের চোরাবালিতে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

ট্রাম্পের যুদ্ধ ও ‘সিলভার বুলেট’ থিওরি: হরমুজ সংকটের চোরাবালিতে যুক্তরাষ্ট্র

যদি কেবল কথার লড়াইয়ে যুদ্ধ জেতা যেত, তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত অনেক আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যে যুদ্ধ মাত্র দেড় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা আজ দশম সপ্তাহে গড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এমন এক গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছেন, যেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার পথ তিনি নিজেই খুঁজে পাচ্ছেন না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে নিজের তৈরি দুটি ফাঁদে বন্দি। প্রথমটি ভূ-রাজনৈতিক হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একচ্ছত্র প্রভাব এবং নতি স্বীকার না করার অনমনীয় জেদ। দ্বিতীয়টি অভ্যন্তরীণ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে হু হু করে বাড়ছে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব, ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে ৩০-এর ঘরে এবং প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৪.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এখন ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ বন্ধ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এই অসহায়ত্ব থেকেই হয়তো ট্রাম্প বারবার কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই সামরিক কৌশল পরিবর্তন করছেন। কখনো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করা হচ্ছে, আবার কখনো ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় তা স্থগিত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘সিলভার বুলেট’ থিওরি বলছেন, যেখানে একের পর এক আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো সম্ভব হচ্ছে না।

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তান ও দুই দেশের মধ্যে এক পৃষ্ঠার একটি গোপন স্মারকলিপি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই দলিলটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে পরবর্তী ৩০ দিনের জন্য একটি অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় অর্ধশতাব্দীর পুরনো পারমাণবিক দ্বন্দ্ব, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জটিল সমস্যা কি এক পৃষ্ঠার দলিলে সমাধান সম্ভব? ইরান এখন তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কৌশলগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে চায়। আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তান এই আলোচনার বিষয়ে ইরানের জবাব হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

এই যুদ্ধ বিশ্বকে এক বড় শিক্ষা দিচ্ছে কীভাবে একটি ছোট ও সামরিকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশ অপ্রতিসম যুদ্ধের মাধ্যমে পরাশক্তিকে নাজেহাল করতে পারে। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যখন বলেন যে ‘প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ’, তখন প্রকারান্তরে তিনি ইরানের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকার করে নিচ্ছেন। ইরানের শাসকরা এই যুদ্ধকে তাঁদের টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখছেন, আর এই দীর্ঘসূত্রতাই তাঁদের জন্য এক ধরণের বিজয়।

ডিজিএন/এনএস

banner
Link copied!