হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার মাঝে এবার বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওমান উপসাগরের প্রবেশপথে মার্কিন নৌবাহিনী ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যকার "যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল আছে" এবং এই সংঘর্ষকে তিনি কেবল একটি "হালকা ধাক্কা" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথম বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে জানায়, একটি ইরানি ট্যাংকারে মার্কিন হামলার পর এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর মিসাইল ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রাকস্টন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস ম্যাসন উসকানিবিহীন ইরানি হামলার মুখে পড়ে। ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান দিয়ে হামলা চালালেও মার্কিন সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
পাল্টা জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং নজরদারি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে "আত্মরক্ষামূলক হামলা" চালিয়েছে। এর মধ্যে বান্দার খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় এলাকা আক্রান্ত হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরানি বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে এবং তাদের নৌযানগুলোকে "সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হয়েছে"। তিনি একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছেন, যা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে বলে তাঁর দাবি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, "চুক্তি স্বাক্ষর না হলে তাদের অনেক কষ্ট ভোগ করতে হবে।"
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি (যিনি দুই মাস আগে তাঁর বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন) হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যদিও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কূটনীতির কথা বলছেন, তবে আইআরজিসি-র অনমনীয় অবস্থান ও সর্বোচ্চ নেতার বার্তার কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় কাটছে না।
এই সংঘর্ষের তাৎক্ষণিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬.৮০ ডলারে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :